কিছুটা সময় তোমরা অপেক্ষা কর… কিছুটা সময় আমরাও অপেক্ষা করে নিচ্ছি!
বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর অফিসার ক্যাডেটগণ যখন শপথ গ্রহণ করে তখন তাদের শপথের মৌলিক একটি অংশ থাকে বাংলাদেশের সংবিধান। তাত্বিক ভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি অফিসারের, প্রতি ফোঁটা ঘাম, রক্ত, মেধা, শ্রম - dedicated for securing and upholding the constitutions.
যে সংবিধান মানুষের লেখা - এ দল কিংবা বি দলের হাতের ফসল, মনমত যা পরিবর্তন করে ফেলা যায়, কিছু মানুষ এই সংবিধানকে ব্যবহার করে তাদের নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থে। তাদের এই সংবিধান আসমান থেকে আসেনি, কোন ফেরশতা নিয়ে আসেননি, আল্লাহ রব্বুল আলামিন এই সংবিধানের ব্যাপারে কোন ওয়াদা দেননি বরং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সালাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জাহেলি যুগের সমস্ত বিধান আমার পায়ের নিচে!
অপরদিকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা - আপনাকে, আমাকে আরেকটি সংবিধান, বিশ্ব-মানবতার সংবিধান আল কুরআন দান করেছেন। আপনার ঘরের শেলফে পড়ে থাকা খুব সম্ভবত সবচেয়ে অবহেলিত যে কিতাব - আল কুরআন, বিশ্ব-মানবতার পথপ্রদর্শক!
.
ঘোরে, ঘোরে আমাদের বেশ অনেকটা সময় পার হয়ে গেছে। আস্তে, আস্তে দাগ গুলো পরিষ্কার হচ্ছে, ঈমান এবং নিফাকের তাঁবু চিহ্নিত হতে শুরু হয়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে আমাদের ঈমানের সাক্ষ্য - ‘লা ইলাহা ইল্লাহ’ সেই কালিমার পতাকাও আজ টার্গেট। ইনিয়ে বিনিয়ে এই পতাকার সাথে রাজনীতি জুড়ে দেয়া হচ্ছে, কালিমার পতাকাকে থ্রেট হিসেবে চিত্রিত করা হচ্ছে।
লক্ষ্য করুন যে কোন ভিনদেশী পতাকা যে কেউ ওড়াতে পারে কিন্তু কালিমা খচিত পতাকা ওড়ানো যাবেনা - কেন এই কালিমা বিদ্বেষ? আমরা বলতে লজ্জা করিনা সরল উত্তর - ইসলাম বিদ্বেষ, জঙ্গি জুজু। আজ এটি একাডেমিয়া প্রমাণিত কিভাবে পশ্চিমা মিডিয়া, হলিউড, বলিউড - মুসলিম চরিত্র, কালিমার পতাকা এবং আল্লাহু আকবর এর মত বিষয়গুলো সন্ত্রাসী ফ্রেমে এস্টাবলিশ করেছে, Come - prove us wrong.
লক্ষ্য করুন - ত্রিশূল নিয়ে মিছিল হতে পারে, গেরুয়া পতাকা নিয়ে মিছিল হতে পারে, কিন্তু সমস্যা কেবল কালিমার পতাকা নিয়েই! যে যুক্তিতে তারা কালিমার পতাকাকে নিশানা বানাচ্ছে সেই একই যুক্তিতে গেরুয়ার পতাকাও নিশানা হবার কথা বরং আরো বেশি - কিন্তু সে ব্যাপারে কোন কথা নেই, কেন?
এটি একদিনের ফসল নয়, বছরের পর বছর ধরে তারা ইসলামকে ডিলেজিটিমাইজ করেছে, ইসলামের আহকাম এবং প্রতীক সমূহ অপমান করেছে, আমাদের চোখের সামনেই করেছে। কিন্তু সেটা তারা জঙ্গিবাদের নামে করেছে তাই আমরা খুব রিল্যাক্সড ছিলাম। আজ যখন জঙ্গি জুজুর ডেট এক্সপায়ার হয়ে যাচ্ছে, জঙ্গি জুজুর আড়ালে তাদের নোংরা এজেন্ডা যখন উন্মোচিত হল - তখন আমরা লক্ষ্য করলাম তারা আসলে আমাদের ঈমান এবং আমাদের ইসলামকেই টার্গেট করেছিল!
কখনো এমন ভাবেননি, কিন্তু তাই হচ্ছে, তাই হবে, আরো বেশি বেশি হবে। দিন শেষে দুটি মাত্র তাঁবু টিকে থাকবে - একটি ঈমানের আরেকটি কুফরের।
.
অতএব সবকিছু পরিষ্কার হবার পর আজ যদি আপনি যদি মনে করেন - আপনি আপনার ঈমানকে ডিফেন্ড করবেন - then defend like a real man!
জাফর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র কথা স্মরণ করুন - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাতে মুসলিম বাহিনীর পতাকা তুলে দিয়েছিলেন, কাফেররা তাঁর ডান হাত কেটে দিল, তিনি বাম হাতে সেই পতাকা তুলে ধরলেন, কাফেররা বাম হাতও কেটে দিল - তিনি কাটা দুই বাহু দিয়ে পতাকা তুলে রাখলেন - অবশেষে কাফেররা তাকে শহিদ করে দিল, আরেক সাহাবী এসে মুসলিম বাহিনীর পতাকা তুলে নিলেন! এটি ছিল কেবলমাত্র রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়াসাল্লামের দেয়া মুসলিম বাহিনীর জন্য পতাকা তাহলে কেমন হতে পারে যদি সেটি কালিমার পতাকা হয়! কালিমার পতাকা কখনো নামার জন্য উড়েনা! যাদের সামনে গেরুয়ার পতাকা উড়ে আবার তারাই যদি কালিমার পতাকা নিয় ব্যস্ত হয়ে ওঠে তবে আমরা অবশ্যই খুঁজে বের করব - এর নেপথ্যে কি? এর নেপথ্যে কারা?
‘সাদা কালো কালিমার পতাকার নেপথ্যে কী?’ - বলে যারা সেই পুরনো আমলের জুজুর ভয় দেখাতে চায় তাদের জন্য আমাদের উত্তর -
এর নেপথ্যে আমাদের ঈমান। কালিমার পতাকা আমাদের জন্য ভালোবাসা আর সেই ভালোবাসা আমাদের ঈমান থেকে, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান থেকে।
আর ঈমান কি? ঈমান হচ্ছে তা - যা আমরা দুনিয়া এবং এর মাঝে যা কিছু সম্ভব তার কোন কিছুর বিনিময়ে পরিত্যাগ করিনা!
আমরা লিখে দেই - পতাকা তারা নামিয়ে ফেলতে পারে বটে কিন্তু আমাদের বুকের ভেতরে যে ঈমান তা কিভাবে নেভাবে?
আজ যদি আমরা নাও পারি, আমাদের পরে এই পতাকা হাতে আরো অনেকে আসবে, তারা আসবে শয়ে, হাজারে, লাখে … স্রোতের মত!
.
কিছুটা সময় তোমরা অপেক্ষা কর…
কিছুটা সময় আমরাও অপেক্ষা করে নিচ্ছি!


